মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫

সুখ ও সন্তুষ্টি।


এক জেলে দুপুর পর্যন্ত মাছ শিকার করে সারা দিনের প্রয়োজন মিটিয়ে ফেললো । অতএব সে এবার মাছ শিকারে ক্ষান্ত দিয়ে গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে লাগলো। একটু পর সে খুশির অতিশাজ্জে বাঁশিও বাঁজাতে শুরু করল ।
পথের পাশ দিয়ে একজন

ধনী ব্যবসায়ী গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল । জেলেকে দেখে সে গাড়ি থামিয়ে রাগান্বিত স্বরে জিজ্ঞেস করল-
“ মাছ শিকার ছেড়ে তুমি এভাবে অলস ভাবে বসে আছো কেন?”
জেলে উত্তর দেয়-
“ আজকের দিনের প্রয়োজনীয় মাছ আমার শিকার হয়ে গেছে”।
ধনী ব্যবসায়ী আরো রেগে গিয়ে বলে-
“ তুমি আরও বেশি মাছ কেন শিকার করছনা?”
জেলে বলে-
“বেশি মাছ দিয়ে আমি কি করব?”
ব্যবসায়ী অবাক হয়ে বলে-
“ বেশি মাছ ধরে তুমি তা বিক্রি করে বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবে । তা দিয়ে তুমি আরও বড় নৌকা কিনতে পারবে”
জেলেও অবাক হয়ে বলে-
“তারপর আমি কি
করব?”
ব্যবসায়ী বলতে থাকে-
“ বড় নৌকা দিয়ে তুমি আরও বেশি মাছ ধরতে পারবে- আরও বেশি অর্থ পাবে আর তা দিয়ে অনেকগুলি নৌকা তুমি ক্রমান্নয়ে কিনতে পারবে” ।
জেলে বলে-
“ এরপর আমি কি করব?”
ব্যবসায়ী বলে-
“ তুমি অনেক কর্মচারী নিয়োগ দিবে। এবং তোমার ব্যবসা বাড়তে থাকবে। এক সময় তুমি আমার মত বড় ব্যবসায়ী হয়ে যাবে”।
জেলে বলে-
“ বড় ব্যবসায়ী হয়ে আমি কি করবো?”
ব্যবসায়ী বলে-
“ তুমি তখন আরাম করে বিশ্রাম নিতে পারবে-একজন সুখি মানুষ হতে পারবে”।
জেলে বলে-
“ আপনি কি কখনো আরাম করে বিশ্রাম নিতে পেরেছেন?”
ব্যবসায়ী ভবিষ্যৎ কোন এক সপ্নে বিভোর হয়ে উত্তর দেয়-
“ না, আরামের এখনো অনেক দেরি- আমি আমার ব্যবসাকে আরও বড় করতে চাচ্ছি”।
জেলে হেসে দিয়ে বলে-
“ আপনার বয়স ষাটের উপর চলে গিয়েছে। অথচ এখনো আপনি আরাম করতে পারেননি । কিন্তু আমাকে দেখেন – আমার বয়স আপনারই মত- কিন্তু আমি আমার চাহিদাকে সীমিত রেখেছি বলে সবসময় এভাবে আরাম করি আর বাঁশি বাঁজাই ।
আপনি ভবিষ্যতে সুখী হবেন বলে এখনো ছুটছেন আর আমি নিজেকে অনেক আগে থেকেই সুখী করে রেখেছি। অতিরিক্ত সম্পদের মাঝে সুখ খুঁজা আর মরুভূমির মাঝে মরীচিকার পিছনে ছুটা একই কথা । অল্পতে যে তুষ্ট থাকতে পারে – সেই মূলত সুখী হয়” ।
ধনী ব্যবসায়ী গম্ভীর মুখে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেল। জেলের কথাগুলি এতই সত্য যে – এর জবাব তার কাছে নেই।

ভূল হাতে প্রযুক্তি,কলম ও অস্ত্র কোন কিছুই নিরাপদ হতে পারেনা।


ভূল হাতে প্রযুক্তি,কলম ও অস্ত্র কোন কিছুই নিরাপদ হতে পারেনা।
যেমন ধরুন-
আমার  পরিচিত মোবাইল ব্যবহারকারী ১ ছেলে ।এবার এস এস সি পরিক্ষার্থী।মা-বাবার মৃদু প্রতিবাদের পরও প্রায় ২বছর যাবৎ মোবাইল ব্যবহার করে আসছে।এখন পরীক্ষা প্রায় সন্নিকটে হওয়াই  ছেলেকে লেখা-পড়ায় বসানোর জন্য মা-বাবার  জোর চেষ্টা।
চেষ্টা নং ০১-মা-বাবা সিদ্ধান্ত নিল ছেলের থেকে মোবাইল নিয়ে ফেলবে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত। চেষ্টার ফলাফল স্বরূপ যা রেজাল্ট আসল তার সারর্মম হল---মা-বাবা ছাড়া থাকতে পারবে,কিন্তু মোবাইল ছাড়া থাকতে পারবেনা।
চেষ্টা নং ০২ ঃ কিছু দিনের জন্য অর্থ্যাৎ পরীক্ষা পর্যন্ত ছেলেকে হোস্টেলে রেখে লেখা-পড়া করবে।কিন্তু সমস্যা হল হোস্টেলে থাকা ছাত্রদের মোবাইল রাখার অনুমতি নেই।।
সুতরাং ফলাফল—যেখানে মোবাইল রাখা যাবেনা এমন হোস্টেলে সে থাকবে না।
উপরোক্ত বিষয়টা আমি এই জন্য লিখলাম—আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দর জীবনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মোবাইলের ব্যবহার শুরু থেকে নিয়ন্ত্রন করা মা-বাবার উচিত।অন্যতায় ফলাফল কিছুটা হলেও নিচ্ছই বুঝতে পেরেছেন।

সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০১৫

পরিবর্তন ও বিবর্তন


মানুষের শারীরিক পরিবর্তনে ডারউইনের বিবর্তনবাদকে আমরা অস্বীকার করলেও পৃথিবীতে মানুষের মানসিক ও অবস্থার পরিবর্তন,বিবর্তন ও বিলুপ্ত ঠিকই হচ্ছে।যেমন ধরুন-

☺☺আগের দিনে বিয়েতে বর-কনে বহন করার জন্য পালকী বহন করার কিছু পেশাদার লোক ছিল,কিন্তু কালক্রমে-আজ পেশাটা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
☺☺ মাটির হাড়ি-পাতিল তৈরি করা এক সম্পদায়ের পেশা ছিল,কিন্তু এই পেশাটাও আজ প্রায় বিলুপ্ত।
আবার অন্য দিকে আরো অনেক নতুন নতুন বিষয় নিয়ে কিছু পেশার সৃস্টি হয়েছে।যেমন-

☺☺বাজারে মাছ/মাংস/মুরগী কাটার পেশা।যা আগে কোনদিনই ছিলনা।
☺☺মোবাইল সেবা সংক্রান্ত অনেক পেশা।যা দেশে অনেকটা নতুন বলা চলে।
উপরোক্ত বিলুপ্ত,পরিবর্তন ও বিবর্তন গুলো আমাদেরকে
আশাবাদী করলেও কিছু কিছু বিবর্তন আমাদেরকে খুবই চিন্তার মধ্যে ফেলে দেয়।যেমন-

☺☺আগের দিনে সুদ বা সুদী লেনদেন গুলো যথা সম্ভব মানুষ গোপনে সম্পাদন করার চেষ্টা করত।কিন্তু বর্তমানে বিবর্তিত হয়ে বিষয়টা লজ্জা বিহীন অফিসিয়াল প্রতিষ্টানে পরিনত হয়েছে।
☺☺আগের দিনে মানুষ থানার দালাল বা ভূমি অফিসের দালাল এই সব বিশেষনে পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করত।কিন্তু বর্তমানে এইসব বিশেষনে পরিচয় দিতে বিশেষনদারীরা গর্ববোধ করে।।

শেষ কথা হল,সময়ের সাথে সাথে শুভ বিবর্তন গুলো আমাদের সমাজকে সভ্য ও উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু দূঃখের বিষয় আজকাল অশুভ বিবর্তনগুলোর পাল্লা কেন জানি খুবই বেশি ভারি হয়ে যাচ্ছে।যা আমাদের সমাজের জন্য অমঙ্গলের সংকেত।

বুধবার, ২২ জুলাই, ২০১৫

ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসণে বিশেষ ট্রাইবোনাল গঠনের দাবী।==



আমাদের বাংলাদেশে যত সংঘাত,সংর্ঘষ  হত্যা  সংঘটিত হয়ে থাকে এর সিংহ ভাগই  হয়
 ভূমি সংক্রান্ত জটিলতাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বাংলাদেশে ৯০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত।।
এবং এরই ফল স্বরূপ  দেশে প্রায় প্রতিনিয়ত দাঙ্গা, সংর্ঘষ, খুন   ইত্যাদি লেগেই আছে যদি সরকার  শুধু মাত্র ভূমি সংক্রান্ত  জটিলতা সমাধান করতে পারে ,তাহলে দেশে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ  সংঘাত ও খুনা-খুনি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে তাই সরকারের কাছে আমরা সাধারণ জনগণের  দাবী –
প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইবোনাল গঠন করে হলেও দেশের ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা গুলো যেন নিরসণ করা হয়। 

                                                                                                                                                                                          অন্যতায় দেশে সংঘাত,সংর্ঘষ ও হত্যার মত ঘট
না সব সময় লেগেই থাকবে।।