রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

জ্ঞান অর্জন...............

একবার একজন ব্যবসায়ী গভীর রাতে জনশূন্য পাহাড়ি অঞ্চল দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। এমন সময় একটি অপরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো: ‘মাটি থেকে কয়েকটি পাথর তুলে নাও। আগামীকাল তুমি যেমন খুশী হবে, তেমনি হবে অতৃপ্ত।’
ধনী লোক এই অপরিচিত লোকের উপদেশ গ্রহণ করলেন। তিনি সত্যি সত্যিই মাটি থেকে তিনটি পাথর তুলে নিয়ে পকেটে রাখলেন। পরের দিন ভোরবেলায় তিনি গন্তব্যে পৌঁছুলেন। তখন তার মনে পড়ল পাথর তিনটির কথা। তিনি একে একে পকেট থেকে পাথর তিনটি বের করলেন এবং অবাক হয়ে দেখলেন যে, পাথর তিনটির একটি হীরা, একটি মুক্তা এবং অন্যটি পান্না। অবাক হবার পরক্ষণেই ব্যবসায়ী মূল্যবান তিনটি পাথরের মালিক বনে যাওযায় আনন্দে আত্মহারা হলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তিনি আফসোস করতে লাগলেন এবং আপন মনে বলতে লাগলেন, ‘হায়! আমি যদি আরো বেশি পাথর তুলে নিতাম।’ তার মনে ভীষণ অতৃপ্তিবোধ জন্ম নিল।
‪#‎লক্ষনীয়_‬:গল্পের পাথরগুলো আসলে প্রতীকি অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। ওই ব্যবসায়ী যদি তার সাধ্যমতো পাথর নিয়ে আসতো, তাহলে অনেক বেশি ধনী হতে পারতো। মানুষের জীবনে জ্ঞান বা ভালো পরামর্শ হলো মূল্যবান পাথরের মতো। এ-জিনিস যতো বেশি সম্ভব সংগ্রহ করা উচিত। জ্ঞান যত বেশি হবে, মানুষ ততো আলোকিত হবে, হবে মনের দিক দিয়ে ধনী। অবশ্য জ্ঞানের পিপাসা কখনো মেটে না। আফসোস থেকেই যায়। কিন্তু যতোটা সম্ভব জ্ঞান অর্জন করে যাওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে দিন শেষে আফসোসের মাত্রা কম হবে। ব্যবসায়ী যদি তার সাধ্যমতো পাথর তুলে নিতেন, তাহলে অন্তত এ-কথা ভেবে সান্ত্বনা পেতেন যে, ‘আমি আমার সাধ্যমতো পাথর তুলে এনেছি।’

(সংগ্রহ)

রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

সত্যি আমরা এখনো তোমাদের ভূলিনি....................




মহান ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বীর ভাষা সৈনিকদের স্মরণে লোহাগাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্পন ও প্রভাত ফেরীতে অংশ নেন লোহাগাড়া অনলাইন প্রেস ক্লাব। পুষ্পার্পনের পর প্রভাব ফেরীটি লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় প্রভাত ফেরীর সাথে সমন্নয়ের মাধ্যমে লোহাগাড়া স্টেশন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পুষ্পার্পন ও প্রভাত ফেরীতে উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া অনলাইন প্রেস ক্লাব এর উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইলিয়াছ,মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, সভাপতি কায়সার হামিদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মনির আহমদ আজাদ, সহ-সভাপতি মুহাম্মদ ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক আবদুল আউয়াল জনি, সহ- সাধারণ সম্পাদক সাত্তার সিকদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন, , সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন রাজিব, সহ-সাগঠনিক সম্পাদক কাইছার ইকবাল চৌধুরী, দপ্তর ও অর্থ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন রুবেল, তথ্য- প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রায়হান সিকদার, সহ-দপ্তর ও অর্থ সম্পাদক এম.এ. এইচ রাব্বী, নির্বাহী সদস্য জাহেদুল ইসলাম সহ আরো অনেক শুভাকাঙ্খী।

সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

ইয়াবা ও এর ক্ষতিকর দিক



ভারতে ইয়াবা পরিচিত ভুলভুলাইয়া নামেই। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এর বিভিন্ন নাম রয়েছে। কোথাও এর নাম সাবু, মিষ্টি স্বাদের জন্য থাইল্যান্ডে একে বলা হয় চকেলি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পরিচিত নাজি স্পিড নামে। রাসায়নিক নাম মেটামফেটামাইন। বাংলাদেশে এর পরিচিত নামের উত্সটিও থাইল্যান্ড থেকে। কেননা এক সময় এই পণ্যটি মূলত থাইল্যান্ড থেকেই আনা হতো। থাইল্যান্ডের মানুষ আদর করে এর নাম দিয়েছে—ইয়া বাহ, যার অর্থ পাগলা বড়ি। মেটামফেটামাইন এবং ক্যাফেইনের মিশ্রিত এক বড়ির নাম ইয়াবা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাজি সেনাদের উত্তেজিত করার জন্য ব্যবহার করা হতো এই বড়ি।
সাধারণভাবে ইয়াবা হয় গোলাকৃতির এবং রং হয় লাল, কমলা বা সবুজ। তবে স্রেফ চকলেট রঙেরও পাওয়া যায়। সাধারণ খাবার বড়ির মতো মুখে কিংবা চকলেটের মতো চুষে কিংবা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে বড়ি রেখে আগুন/তাপ দিয়ে নাক দিয়ে ধোঁয়া গ্রহণের মাধ্যমেও কেউ কেউ এই বড়ি সেবন করে।
ইয়াবা প্রস্তুতের উপাদান সম্পর্কে আগেই বলেছি, থাই ভাষায় ইয়াবা মানে ক্রেজি মেডিসিন বা পাগলা ওষুধ। ইয়াবা এক ধরনের মাদক যা হেরোইনের চেয়ে ভয়াবহ এবং হেরোইনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইয়াবার মূল উপাদান মেথ্যাম ফিটামিন ও সঙ্গে থাকে উত্তেজক পদার্থ ক্যাফিন। ২৫ থেকে ৩৫ মিলিগ্রাম মেথ্যাম ফিটামিনের সঙ্গে ৪৫ থেকে ৬৫ মিলিগ্রাম ক্যাফিন মিশিয়ে তৈরি এ ট্যাবলেটের রং সাধারণত সবুজ বা লালচে কমলা হয়ে থাকে। নথিতে বলা হয়, ইয়াবার স্বাদ সাধারণত আঙ্গুর, কমলা বা ভ্যানিলার মতো এবং আকৃতি খুবই ছোট যা ড্রিঙ্কিং স্ট্রর ছিদ্রের সমান। তাই এটাকে সহজেই লুকিয়ে রাখা যায়। ইয়াবা ট্যাবলেটের মিষ্টি স্বাদ যে কাউকে আকৃষ্ট করতে পারে এবং সেবনের পর ধরা পড়ার সম্ভাবনাও থাকে না। ইয়াবা ব্রান্ডের এসওয়াই, এনওয়াই ও ডব্লিউওয়াই নামের আরও তিনটি ট্যাবলেট বাজারে পাওয়া যায়।
ইয়াবার প্রভাবে অর্থাত্ ইয়াবা বড়ি সেবনে মস্তিষ্ককে চরমভাবে উদ্দীপ্ত করে। এই বড়ি সেবন করলে তাত্ক্ষণিকভাবে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যায়, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং মস্তিষ্কের কিছু কোষের তাত্ক্ষণিক মৃত্যু ঘটে। এর প্রতিক্রিয়ায় হৃদযন্ত্র দুর্বল ব্যক্তিরা ইয়াবা সেবন করামাত্রই হার্ট-অ্যাটাকের সম্মুখীন হতে পারে। এই শারীরিক প্রতিক্রিয়ার ফলে তরুণদের মধ্যে সহিংস হওয়ার প্রবণতা মারাত্মক বেড়ে যায়। সহিংস যৌনতাও ইয়াবা সেবনের একটি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যদিও নিয়মিত ১ বছর এই বড়ি সেবন করলে যৌনক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। ইয়াবার দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া হলো—উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগ বৃদ্ধি, হজমশক্তি নষ্ট এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়া, পিঠে ব্যথা, ফুসফুস ও কিডনি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা এবং টাক পড়ে যাওয়া (তবে সব টেকো ইয়াবাসেবী নয়)। মানসিকভাবে হতাশা, বিষাদ, ভয়, অনিশ্চয়তার আশঙ্কা এবং এর প্রতিক্রিয়ায় আচরণগতভাবে সহিংস হয়ে পড়া ইয়াবার ফল।