রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৫

যুগ আর সভ্যতার ক্রমধারায় সামাজিক পরিবর্তন কখনো থেমে থাকে নি। কিন্তু নগ্নতার দিকে দ্রূত সামাজিক পরিবর্তন সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিকতার অবক্ষয়ের মূখ্য কারণ।

#‎সানি‬ লিওনের আগমণে #‪বাংলার‬ ধর্মীয় নৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুভুতি ধর্ষিত হতে যাচ্ছে: ---
ইতিমধ্যে বিষয়টির পক্ষে-বিপক্ষে অনলাইনে প্রচুর লেখালেখি শুরু হয়েছে ।
যে সমাজে ধর্মীয় নৈতিকতা ক্রমশ মানুষের মন থেকে দূরে সরে গেছে, সামাজিকতা রক্ষার ধর্ম পালনে মানুষ ব্যস্ত সেখানে সানি লিওনের বাজার ভালো হওয়াটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশীরাই মনে প্রাণের তার উপযুক্ত বাজার তৈরি করেছে এদেশে।
তার আগমনকে যুক্তি দিয়ে বৈধতা দিচ্ছে এক শ্রেণী। ''নগ্নতা একটি শিল্প। আর এই শিল্পের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতির বাজার ধরার জন্য তার আগমণ।''
এতে আংশিকভাবে আর্থিক লাভবান হবে বৈধতা দানকারী নেতা-আমলারাও। কয়েক ঘণ্টার জন্য তার আগমণকে কেন্দ্র করে দেশের প্রচুর অর্থ চলে যাবে বাইরের দেশে। সানি লিওনের আলোচিত-বির্তকিত আগমনে দেশের আর্থিক অপচয়। আর এক শ্রেণী মানুষ নগ্নতার হাতে দেশের সংস্কৃতিকে সর্পিত করে মন সন্তষ্টি খুঁজে পাবে।
যুগ আর সভ্যতার ক্রমধারায় সামাজিক পরিবর্তন কখনো থেমে থাকে নি। কিন্তু নগ্নতার দিকে দ্রূত সামাজিক পরিবর্তন সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিকতার অবক্ষয়ের মূখ্য কারণ।

শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৫

পরিচয় হোক শুধু বাংলাদেশী,সামাজিক অবস্থায় নয়।

বুয়েটের সমাবর্তনে অনুষ্ঠানে পুরস্কার নিতে গিয়ে এক ছাত্র খুব গর্ব করে বলেছিল, "আমার মতো ছাত্র বুয়েট আর ২য়টি পাবে না, আর আসবেও না, আমিই শেষ । আমি আজ বেরিয়ে যাচ্ছি,আর কোনো দিন এই বুয়েটে আমার মতো কোনো ছাত্র ভর্তি হতে পারবে না। আজ আমি গর্বিত যে, এতো বড় এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আমি ছাত্র ছিলাম।"
সে কাঁদছিল আর কথাগুলো বলতেছিল। তার এক স্যার এই গর্বিত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তখন সে বলেছিল, "কমলাপুরের রেলওয়ে স্টেশনের কাছে এক বস্তির ঘরে আমার জন্ম হয়েছে, আমি বস্তির ছেলে। ছোট বেলায় বাবা মারা যায়। মা দিনের বেলায় ভিক্ষাবৃত্তি করত আর রাতে এক বাসায় কাজ করত। আমি বস্তির এক স্কুলে পড়তাম। ছোট থেকেই লেখা-পড়ায় চৌকস ছিলাম। স্কুলের ফাঁকে ফাঁকে আমি স্টেশনে বাদাম বিক্রি করতাম,স্টেশনে পড়ে থাকা ইংলিশ পত্রিকা
র টুকরা টুকরা কাগজ কুড়িয়ে পড়তাম। আমি যখন ক্লাস থ্রিতে উত্তীর্ণ হলাম, ঐ বস্তির স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে। আমার পড়া লেখার প্রতি আগ্রহ দেখে এক ভদ্রলোক আমার দিকে সাহায্যর হাত বাড়িয়ে ছিল। সেই ভদ্র লোকটির জন্য আজ আমি এতদূর পর্যন্ত আসতে পেরেছি। আজ মা বেঁচে নেই, থাকলে দৌড়ে গিয়ে জোড় গলায় বলতাম, "মা! তোমার এই বস্তির ছেলে, বাদাম বিক্রিওয়ালা ছেলেটি আজ ইঞ্জিনিয়ার।"
কিন্তু ভাগ্যর নির্মম পরিহাস, তিনি আজ নেই। আজ আমার একটাই পরিচয়, আমি বস্তির ছেলে। যা বলতে আমার এতটুকু দ্বিধাবোধ হয় না..."
এই রকম মন মানসিকতার অধিকারী আমরা কয়জন হতে পেরেছি? শতকরা একজনকেও পাওয়া যাবে না। আমরা নিজেকে কৃষকের ছেলে বা মেয়ে বলে পরিচয় দিতে হীনমন্যতায় ভুগি। যেখানে, বাংলাদেশ নিজেই একটি কৃষিপ্রধান দেশ.....অনেককেই ভাবতে দেখি, ধুর! আমি তো মধ্যভিত্ত, আমার দ্বারা বোধ হয় এটা হবে না....... আরে, হবে কিভাবে!!! তুমি তো চেষ্টাই করনি!!!
আমরা ভুলে যাই যে, আমরা বাংলাদেশী, আমাদের মধ্যে সামাজিকতা আছে, যা সারা বিশ্বের কোনো জাতির মধ্যে নেই। আমরা ইচ্ছা করলে সব পারি, "পারতেই হবে" কথাটা যে আমাদের রক্তে মিশে আছে....।।(সংগ্রহ)

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৫

আমরা ঐশি কামনা করব ? নাকি করব না?



গতকাল আমার ১বন্ধু দূঃখ করে বলল-
তোদের মাদক বিরোধী আন্দোলন কোন দিন সফল হবে না। যত দিন পর্যন্ত মাদকের প্রশ্রয় দাতা প্রতিটি ঘরে ঘরে ১টি ১ টি  করে  ঐশি জন্ম না হবে।।
এখন বুঝতে পারতেছিনা—আমরা কি মাদকের প্রশ্রয় দাতাদের ঘরে ঘরে ১টি ১টি করে ঐশি  কামনা করব ? নাকি করব না?

শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৫

প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রচার নয়,প্রশিক্ষণের আগে প্রচার চাই।



আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে  জানতে পেরেছি লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সদ্য এসএসসি পাস করা মহিলা শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্পটা ব্যাপকভাবে সাড়া পড়েছে। শুধু যে সাড়া পড়েছে তা নয়--৮০ জন কোটার বাহিরেও আরো ৪০/৫০জন শিক্ষার্থী কম্পিউটার প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছে। শুনে আমরা খুবই আনন্দিত ও আশাবাদী অনুভব করছি।।
এখন আমাদের প্রশ্ন ছিল কেন এই প্রশিক্ষণে এতগুলো শিক্ষার্থী উৎসাহের সাথে সাড়া দিল ? লোহাগাড়ায় তো আরো অনেক ধরনের প্রশিক্ষণ(যুব উন্নয়ণ,কৃষি,মৎস ইত্যাদি) হয় বা হয়ে থাকে,এই গুলোতে এত সাড়া নেই কেন?
আমরা কয়েকদিন বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সাড়া দেওয়ার ব্যাপারে   ২টি উত্তর পেয়েছি—
০১/উক্ত প্রকল্পের ব্যাপারে নির্বাহী কর্মকর্তার প্রচার মাধ্যম বা কৌশল।
০২/ লোহাগাড়ার তরুণ সমাজের ভাল কিছু শিখার আগ্রহ আগে থেকে ছিল এবং এখনো আছে।
এখানে আমাদের মূল কথা হচ্ছে প্রচার মাধ্যমের দূর্বলতার কারণে লোহাগাড়ায় কোন দপ্তরের অধিনে কখন কি প্রশিক্ষণ হচ্ছে লোহাগাড়ার যুব সমাজ তা জানতে ব্যর্থ হচ্ছেতাই লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে লোহাগাড়ায় কোন দপ্তরের অধিনে কখন কি প্রশিক্ষণ হচ্ছে তা যেন ১সপ্তাহ আগে থেকে প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যেন লোহাগাড়ার যুব সমাজ সহজেই প্রশিক্ষণের সুযোগ নিতে পারে।।
বি.দ্র.- প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রচার নয়,প্রশিক্ষণের আগে প্রচার চাই।

বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০১৫

জড়িয়ে পড়েছে ৫০ লাখ পরিবার ॥ ভূমি বিরোধ তুঙ্গে। জটিলতা নিরশনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।

জড়িয়ে পড়েছে ৫০ লাখ পরিবার ॥ ভূমি বিরোধ তুঙ্গে।জটিলতা নিরশনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।
০ প্রতি পাঁচ পরিবারের একটি বিরোধে জড়িত।
০ ১৯৫৪ সালের মামলা এখনও শেষ হয়নি ।

দেশের প্রায় ৫০ লাখ পরিবার ভূমি সংক্রান্ত বিরোধে জড়িত। এই হিসাবে প্রতি ৫টি পরিবারের মধ্যে একটি পরিবার এই সমস্যায় আক্রান্ত। ভবিষ্যতে আরও ৬ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার এই জটিলতায় পড়তে পারেন। দেশের ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার বর্তমান এবং পূর্বের ভূমি সমস্যার জন্য গড়ে বছরে ৩৮ দিন কাজে যেতে পারে না। এর ফলে বছরে প্রায় আট হাজার ৪০০ টাকার ক্ষতি শিকার হতে হয় প্রতিটি পরিবারকে।
অন্যদিকে ভূমি সমস্যায় জর্জরিত ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারের প্রতিটি পরিবারকে ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে প্রতিবছর পুলিশকে দিতে হচ্ছে ২২ হাজার ২৭০ টাকা। এই বিরোধের জের ধরে প্রতিবছর ২৫ শতাংশ পরিবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হচ্ছে আরও সাড়ে ৭ শতাংশ পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে নারীপ্রধান পরিবারের সদস্যরা থাকেন খুবই নাজুক অবস্থানে। তাদের ওপর চলে নানামুখী নির্যাতন। সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সালিশকারীদের বেশি পরিমাণে ঘুষ দিতে তারা বাধ্য হয়। সালিশকারীদেরও বছরে গড়ে ৫ হাজার ৪৮৩ টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও এই সালিশকেই ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মানুষের প্রথম পছন্দ। অন্যদিকে, এই বিরোধ নিষ্পত্তিতে খরচ হচ্ছে পরিবারের বার্ষিক আয়ের ৪৫ শতাংশ, যা পরিবারটিকে স্থায়ী অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।সূত্র-দৈনিক জনকন্ঠ।১২ই আগষ্ট ২০১৪ইং।

শনিবার, ১ আগস্ট, ২০১৫

মধ্যবিত্ত

মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম না নিলে হয়তো জীবনের মানে বুঝতাম না। অনেক কিছুই আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের চিন্তা করতে হয় । যেমনঃ
.
★আমাদের টুথ ব্রাশ সূর্যমুখী ফুল না হওয়া পর্যন্ত ওটা ইউজ করতেই থাকি ।
.
★আমরা শ্যাম্পুর বোতল শেষহয়ে গেলে ফেলে দেই না , তাতে পানি ঢেলে সপ্তাহ খানেক চালিয়ে দেই।
.
★টুথপেস্ট বা স্নো শেষ হলে সেটার কোনায় কেটে টিপে টিপে বের করি ,নিশ্চিন্তে সপ্তাহ কেটে যায়।
.
★ টিভির রিমোট জোরে জোরে টিপি, চড় থাপ্পর দেই, তবুও নতুন ব্যাটারি লাগানোর কথা মাথায় আসে না ।
.
★আমাদের ঘরে দামি প্লেট বাটি গুলো সো-কেস এ তুলে রাখা হয়, মেহমান না আসা পর্যন্ত সেগুলো বের করা হয় না ।
.
★আমাদের বাসায় হরলিক্স এর খালি বোতল ফেলে দেয়া হয় না, তাতে আচার রাখা হয় ।
.
★আমাদের ঘরে আই.পি.এস থাকে না তাই কারেন্ট গেলে গরমের মাঝেও মোমবাতির আলোতে পড়তে হয় ।
.
★মোবাইলের ব্যাটারী পাওয়ার কম হয়ে গেলেও চার্জে ঢুকিয়ে দিয়ে সারাদিন ফেসবুক ইউজ করি (অনেকে এখনো তাই করছে) তবুও নতুন ব্যাটারি কিনতে চাই না ।

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫

সুখ ও সন্তুষ্টি।


এক জেলে দুপুর পর্যন্ত মাছ শিকার করে সারা দিনের প্রয়োজন মিটিয়ে ফেললো । অতএব সে এবার মাছ শিকারে ক্ষান্ত দিয়ে গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে লাগলো। একটু পর সে খুশির অতিশাজ্জে বাঁশিও বাঁজাতে শুরু করল ।
পথের পাশ দিয়ে একজন

ধনী ব্যবসায়ী গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল । জেলেকে দেখে সে গাড়ি থামিয়ে রাগান্বিত স্বরে জিজ্ঞেস করল-
“ মাছ শিকার ছেড়ে তুমি এভাবে অলস ভাবে বসে আছো কেন?”
জেলে উত্তর দেয়-
“ আজকের দিনের প্রয়োজনীয় মাছ আমার শিকার হয়ে গেছে”।
ধনী ব্যবসায়ী আরো রেগে গিয়ে বলে-
“ তুমি আরও বেশি মাছ কেন শিকার করছনা?”
জেলে বলে-
“বেশি মাছ দিয়ে আমি কি করব?”
ব্যবসায়ী অবাক হয়ে বলে-
“ বেশি মাছ ধরে তুমি তা বিক্রি করে বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবে । তা দিয়ে তুমি আরও বড় নৌকা কিনতে পারবে”
জেলেও অবাক হয়ে বলে-
“তারপর আমি কি
করব?”
ব্যবসায়ী বলতে থাকে-
“ বড় নৌকা দিয়ে তুমি আরও বেশি মাছ ধরতে পারবে- আরও বেশি অর্থ পাবে আর তা দিয়ে অনেকগুলি নৌকা তুমি ক্রমান্নয়ে কিনতে পারবে” ।
জেলে বলে-
“ এরপর আমি কি করব?”
ব্যবসায়ী বলে-
“ তুমি অনেক কর্মচারী নিয়োগ দিবে। এবং তোমার ব্যবসা বাড়তে থাকবে। এক সময় তুমি আমার মত বড় ব্যবসায়ী হয়ে যাবে”।
জেলে বলে-
“ বড় ব্যবসায়ী হয়ে আমি কি করবো?”
ব্যবসায়ী বলে-
“ তুমি তখন আরাম করে বিশ্রাম নিতে পারবে-একজন সুখি মানুষ হতে পারবে”।
জেলে বলে-
“ আপনি কি কখনো আরাম করে বিশ্রাম নিতে পেরেছেন?”
ব্যবসায়ী ভবিষ্যৎ কোন এক সপ্নে বিভোর হয়ে উত্তর দেয়-
“ না, আরামের এখনো অনেক দেরি- আমি আমার ব্যবসাকে আরও বড় করতে চাচ্ছি”।
জেলে হেসে দিয়ে বলে-
“ আপনার বয়স ষাটের উপর চলে গিয়েছে। অথচ এখনো আপনি আরাম করতে পারেননি । কিন্তু আমাকে দেখেন – আমার বয়স আপনারই মত- কিন্তু আমি আমার চাহিদাকে সীমিত রেখেছি বলে সবসময় এভাবে আরাম করি আর বাঁশি বাঁজাই ।
আপনি ভবিষ্যতে সুখী হবেন বলে এখনো ছুটছেন আর আমি নিজেকে অনেক আগে থেকেই সুখী করে রেখেছি। অতিরিক্ত সম্পদের মাঝে সুখ খুঁজা আর মরুভূমির মাঝে মরীচিকার পিছনে ছুটা একই কথা । অল্পতে যে তুষ্ট থাকতে পারে – সেই মূলত সুখী হয়” ।
ধনী ব্যবসায়ী গম্ভীর মুখে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেল। জেলের কথাগুলি এতই সত্য যে – এর জবাব তার কাছে নেই।