বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০১৬

We love to see dreams(আমরা সপ্ন দেখতে ভালবাসি) গ্রুপের পক্ষ থেকে সম্মাননা।

We love to see dreams(আমরা সপ্ন দেখতে ভালবাসি) গ্রুপের পক্ষ থেকে আমরা গ্রুপ পরিচালক প্যানেল মোহাম্মদ লোকমান Md Omar Faruk Md Razib আজ লোহাগাড়ার এই কঠোর পরিশ্রমী, জীবন সংগ্রামী,উদ্দোমী ও সাহসী সৈনিককে আমাদের গ্রুপ প্যাস্টুন ও কিছু শিক্ষা সহযোগী প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা জানাচ্ছি।যিনি হাজারও অভাব অনটনের মধ্যেও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্টিত করেছে।এবং বর্তমানে সে নিজের লেখা-পড়ার পাশাপাশি ১টি শিক্ষা প্রতিষ্টানে শিক্ষকতা করে আসছে। কামনা করি এই কঠোর পরিশ্রমীই হবে আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অনুপ্রেরনার প্রতিক।এই সময় আরো উপস্থিত ছিল লোহাগাড়া ছাত্রলীগ এর আহবায়ক রিদওয়ানূল হক সুজন
---------------------------------

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম আমিরাবাদ এলাকায় “পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের আসমানী কবিতা’র ..মত পরিবারে তার জন্ম। নাম তার সাজেদা আকতার,বাবা মরহুম হাবিবুর রহমান । ছোটকালে মা-বাবা’কে হারিয়ে ভাইদের কাছে তার বেড়ে উঠা। ২ভাই ও ১বোন নিয়ে ছিল তাদের “আসমানী কবিতা’ময় পরিবার। যে পরিবার থেকে তার লেখা-পড়া চালিয়ে যাওয়াটা ছিল প্রায় কল্পনাময়। আর যেখানে পাঠ্য বই কিনাটাই ছিল অসম্ভব সেখানে তো আর প্রাইভেট পড়াটা ছিল আকাশ কুসুম কল্পনার মত। সহ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বই ধার করে লেখা-পড়া চালিয়ে যাওয়াটাই ছিল তার জন্য নিত্ত্বন্যমিত্ত্ব।
এরপর তার কিছু বক্তব্য হুবুহু তুলে ধরলাম==========
আমি ভাল ফলাফলের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলাম,যদিও আমার এস.এস.সি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে খুপি ব্যতীত কোন আলো ছিল না। আল্লাহর রহমতে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ,দোয়া এবং বড় ভাই-ভাবির সহযোগীতায় এস.এস.সি’তে জি.পি.এ-৫ পাই। এ ফলাফল আমার জীবনের গতিকে প্রসারিত করে দিল। পড়ার প্রতি আমার আগ্রহ দেখে মেঝ ভাই অনেক কষ্ট(আর্থিক) করে আমাকে সরকারী মহিলা কলেজ’এ ভর্তি করে দিলেন এবং থাকার ব্যবস্থা হলো হোস্টেলে। নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝেও আল্লাহর রহমতে ২০১২ সালে জি.পি.এ-৫ পেয়ে এইচ,এস,সি পাশ করি। বর্তমানে অর্থনীতি নিয়ে একই কলেজে অনার্স(৩য় বর্ষে )পড়ছি। স্বপ্ন দেখি বি.সি.এস ক্যাডার হওয়ার। সমাজের যে সব নারী ঠিকে থাকার সংগ্রামে রত তাদের জন্য কাজ করতে চাই। চাইনা কারো অসীম সম্ভাবনা অবহেলা আর সামাজিক শৃংখলের কারনে অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়ে যাক।
তার জীবন সংগ্রামের ব্যাপারে উক্ত এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্টান “পশ্চিম আমিরাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়’এর শিক্ষক মোতাহেরা বেগম বলেন------ তাকে আমি ছোট কাল থেকে জানি, সে আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল এবং সে খুবই মেধাবী ও কঠোর পরিশ্রমী ছিল। পারিবারিক করুণ অবস্থাতেও সে যে ভাবে নিজের লেখা-পড়া চালিয়ে গেছে ও এখনো যাচ্ছে তা বর্তমান সময়ের জন্য বিরল।আমি তার আলোকিত জীবন কামনা করছি।
তার জীবন সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে তারই প্রতিবেশী মৌলানা আহমদ কবির বলেন.......যে পরিবারে একমুটু ভাত জোগার করা কষ্টকর ছিল,সে পরিবারের মেয়ে আজ আমাদের দেখিয়ে দিল—“কঠোর পরিশ্রম ও ইচ্ছা শক্তির বলে শত অভাব অনটনের মাঝেও নিজেকে জয় করা যায়” আমি অন্তর থেকে দোয়া করি, সে যেন আরো অনেক বড় হয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন