রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৬

যৌতুক কাকে বলে? আমাদের দেশীয় আইনে।

যৌতুক নিরোধ আইনে যৌতুকের কোন স্পষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। উক্ত আইনের ২ ধারাটি ব্যাখ্যা করলে যৌতুক শব্দটির সাথে সম্পর্ক যুক্ত কতিপয় সক্রিয় উপাদানের উপস্থিতি দেখা যায়। উক্ত ধারা মোতাবেক যৌতুক হতে হলে পক্ষগণ দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে বিবাহের প্রতিদান স্বরূপ যেকোন সম্পত্তি বা মুল্যবান জামানত প্রদান করা বা প্রদানে সম্মত হওয়াকে যৌতুক বলা হয়েছে। উক্ত আইনে বিবাহের প্রতিদান হিসাবে টাকা দাবী করলে ঐ টাকা যৌতুকের আওতায় পড়বে কিনা সে সম্বন্দে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০, এর ২ ধারায় যৌতুকের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।

ধারা ২) সংজ্ঞা।– বিষয় বস্তু বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী না হলে এই আইনে যৌতুক বলতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রদত্ত যে কোন সম্পত্তি বা মুল্যবান জামানত কে বুঝাবে,যা-
ক) বিবাহের এক পক্ষ অপর পক্ষকে বা
খ) বিবাহের কোন এক পক্ষের পিতা মাতা বা অন্য কোন ব্যাক্তি কর্তৃক বিবাহের যে কোন পক্ষকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে-
বিবাহ মজলিশে বা বিবাহের পুর্বে বা পরে বিবাহের পনরুপে প্রদান করে বা প্রদানে সম্মত হয়।তবে দেনমোহর যৌতুকের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

ব্যাখ্যা ১) বিবাহের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয় এমন কোন ব্যক্তি বর বা কনে যে কোন পক্ষকে পাঁচশত টাকার কম মুল্যের কোন সামগ্রী উপহার হিসাবে প্রদান করলে তা যৌতুক হবেনা।

(অতএব, বিবাহের দাওয়াত খেতে গেলে ৫০০ টাকার কম মুল্যের উপহার নিতে হবে।)

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, এর ২(ঞ) ধারায় যৌতুকের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে,

(অ) কোন বিবাহের বর বা বরের পিতা বা মাতা বা প্রত্যক্ষভাবে বিবাহের সাথে জড়িত বর পক্ষের অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত বিবাহের সময় বা পুর্বে বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাকালে, বিবাহ স্থির থাকার শর্তে, বিবাহের পণ হিসাবে কনে পক্ষের নিকট দাবীকৃত অর্থ, সামগ্রী বা অন্যবিধ সম্পদ; অথবা

(আ) কোন বিবাহের কনে পক্ষ কর্তৃক বিবাহের বর বা বরের পিতা বা মাতা বা প্রত্যক্ষভাবে বিবাহের সাথে জড়িত বর পক্ষের অন্য কোন ব্যক্তিকে উক্ত বিবাহের সময় বা তত্পূর্বে বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাকালে, বিবাহ স্থির থাকার শর্তে, বিবাহের পণ হিসাবে প্রদত্ত বা প্রদানে সম্মত অর্থ, সামগ্রী বা অন্যবিধ সম্পদ সমূহ কে যৌতুক বলা হবে।
অর্থাৎ বিবাহ স্থির থাকার শর্তে কনে পক্ষের নিকট বর বা বর পক্ষের লোকজন নগদ টাকা বা অন্য কোন সম্পত্তি বা কোন রুপ সুযোগ সুবিধা যদি চায় তাহলে তা যৌতুকের অন্তর্ভুক্ত হবে। এই চাওয়া পাওয়া বিবাহের পুর্বে বা বিবাহের সময় বা বিবাহের পরে যেকোন সময় হতে পারে।
যৌতুক শব্দটি একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। যৌতুক সম্পর্কে আমরা বলতে পারি যে, বিবাহের সময় বা বিবাহের পুর্বে বা পরে বিবাহ স্থির থাকার শর্তে বরের পক্ষের লোকজন বা বর কর্তৃক, কনে পক্ষের লোকজন, আত্নীয়স্বজন বা কনের নিকট দাবীকৃত যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রদেয় বা প্রদান করতে সম্মত হওয়া সম্পত্তি বা মুল্যবান জামানতকে বুঝায়।

বিবাহ উত্তর যে কোন সময় ও কনে পক্ষের নিকট টাকা বা মুল্যবান জামানত দাবী করা হলে তা বিবাহের প্রতিদান স্বরূপ দাবী করার সামিল হবে। তাছাড়া বিবাহের পর শ্বশুরের খরচে জামাই কে বিদ্যা শিক্ষা দেওয়া কিংবা বিদেশে পাঠানো বা দেশে চাকুরি প্রদান করা ও যৌতুকের অন্তর্ভুক্ত। যৌতুক কেবল নগদ অর্থ, গাড়ি, বাড়ী ইত্যাদির মধ্যে সীমিত নয়।(কপি পোস্ট)

শুক্রবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৬

১লা বৈশাখ উপলেক্ষ্যে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা ও পরিচালনায়.................



বৈশাখ উপলেক্ষ্যে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে লোহাগাড়ায় সর্বপ্রথম মঞ্চায়িত হল মঞ্চ নাটক  "কচাঁল"।
লোহাগাড়ার শিল্প সাংস্কৃতির ইতিহাসে এই শুভ ঘটনা ও শুভ ঘটনার মানুষ গুলোর নাম চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।







বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৬

সুখ দুঃখ সর্বাবস্থায়ই আমাদের আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ।

সব সময় আমাদের সাথে মন্দ যা কিছুই ঘটুক না কেন তার পেছনে আমাদের কোনো না কোন কল্যান নিহিত থাকে। এ প্রসঙ্গে একটা গল্প মনে পড়ে গেল:
এক রাজার একজন বিশ্বস্ত চাকর ছিল। সে সব সময় রাজার সেবা যত্ন করত। রাজাও তাকে খুব পছন্দ করত। রাজা যেখানে যেত সেখানে চাকরকে নিয়ে যেত। একদিন রাজা তার চাকরকে সাথে নিয়ে শিকারে গেলেন। কিন্তু বাঘ শিকার করতে গিয়ে বাঘের আক্রমনে রাজা তার বা হাতের দুটো আঙুল হারালেন। সৈন্যরা রাজাকে উদ্ধার করল। রাজা যখন ব্যথায় কাতরাচ্ছিল তখন চাকর তাকে বলল "মহারাজ দু:খ করবেন না সৃষ্টিকর্তা যা কিছু করেন তা বান্দার মঙ্গলের জন্যই করেন। নিশ্চই এর মধ্যে আপনার কোনো মঙ্গল নিহিত আছে" এই কথা শুনে রাজা ক্ষেপে গিয়ে বললেন "আমি কয়েকটা আঙুল হারালাম এতে আবার ক্ষতি ছাড়া কিসের কল্যান" এবং চাকরকে বন্দী করে কারাগারে নিক্ষেপ করার আদেশ দিলেন। এর কিছুদিন পর জেদি রাজা কাউকে সঙ্গে না নিয়ে একাই শিকারে গেলেন এবং গভীর জংগলে একদল মানুষখেকো আদিবাসী দের হাতে বন্দী হলেন। সুঠাম দেহের রাজাকে খেতে পারবে ভেবে তারা খুব খুশী ছিল। কিন্তু যখন তারা দেখল রাজার হাতের কয়েকটা আঙুল নেই তখন তারা তাকে ছেড়ে দিল কারন ওরা এমন মানুষ খেত না যার শরীরে কোনো খুত আছে। রাজা তার ভুল বুঝতে পেরে রাজ্যে ফিরে চাকরকে ছেড়ে দেবার আদেশ দিলেন। যখন চাকর রাজার সামনে এল তখন রাজা তাকে জিজ্ঞেস করলেন " আচ্ছা এই যে আমি আঙুল হারালাম এতে না হয় আমার কল্যান ছিল যে আমি প্রাণে বেচে ফিরলাম কিন্তু তুমি যে অন্ধকার কারাগারে এই কদিন কষ্ট করলে এতে তোমার কি কল্যান ছিল? তখন চাকর উত্তর দিল "মহারাজ আমি যদি বন্দী না হতাম তবে অবশ্যই আপনি আমাকে ওই দিন শিকারে নিয়ে যেতেন আর যেহেতু আমার শরীরে কোনো খুত নেই সেহেতু ওই জংলী গুলো আমাকে খেত তাই বন্দী থাকার কারনে আমিও প্রানে বেচে গেলাম এর চেয়ে বড় কল্যান আর কী হতে পারে?
তাই আমাদের সবারই সুখ দু:খ সর্বাবস্থায়ই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ।(কপি)

বুধবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৬

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি আমার সম্মান,শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।




আজ লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি আমার সম্মান,শ্রদ্ধা ও ভালবাসা হাজার গুন বেড়ে গেছে। ধন্য আমি লোহাগাড়াবাসী হয়ে,ধন্য আমরা জনাব ফিজনুর রহমান এর মত একজন নীতি নির্ধারক পেয়ে। ধন্যবাদ লোহাগাড়ায় মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের পক্ষ হয়ে,ধন্যবাদ মোটর সাইকেল ব্যবহারীদের পরিবারের পক্ষ হয়ে।


খবরঃ  আজ ১৩ এপ্রিল সকাল থেকে লোহাগাড়া বটতলী মোটর ষ্টেশনের সাউন্ড হেলথ হাসপাতালের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ফিজনূর রহমান। হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।
উল্লেখ্যঃ গত ৫ বছরের আমাদের লোহাগাড়া মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৩৫জন লোক নিহত হয়েছে এবং এর সিংহ ভাগ মাথায় হেলমেড না থাকাতে মাথায় আঘাত জনিত কারনে নিহত হয়েছে।